1. alinahmed1221@gmail.com : alin ahmed : alin ahmed
  2. azizpekua6@gmail.com : Azizul Hoque : Azizul Hoque
  3. priyobartadesh@gmail.com : journalistshoaib :
  4. smmahfuj204@gmail.com : Mohammad mahfujur Rahman : Mohammad mahfujur Rahman
  5. shamimullahadil2012@gmail.com : Shamim Ullah Adil : Shamim Ullah Adil
'ভোরের কাগজ' -এর সম্পাদক জনাব 'শ্যামল দত্ত' সমীপে | প্রিয় বার্তাদেশ
বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১০:১২ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি
ডিসিএ এগ্রো খামারে সাধারণ কর্মচারি পদে (এক জন) নিয়োগ চলছে , আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৪ ০৬৪৯৭১ সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে - আগ্রহীরা জীবন বৃত্তান্ত পাঠাতে পারেন আমাদের এই ঠিকানায় correspondent@priyobartadesh.com আপনার প্রতিষ্টানের বিজ্ঞাপন কম টাকায়  দিতে আজকেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন ০১৮১৫৬১৫৩৫৫ ( সম্পাদক )   প্রিয় বার্তদেশ পত্রিকার প্রিন্ট কপি বের হচ্ছে , শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন আবশ্যক আমাদের সংবাদ মেসেজে পেতে মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন start <space> priyobd লিখে পাঠিয়ে দিন 21213 এই নাম্বারে **শুধুমাত্র রবি আর এয়ারটেল নাম্বার থেকে আমাদের মোবাইল এ্যাপ গুগলে পাওয়া যাচ্ছে  সার্চ করুন priyobd 

‘ভোরের কাগজ’ -এর সম্পাদক জনাব ‘শ্যামল দত্ত’ সমীপে

সংবাদ দাতা
  • প্রকাশিত বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

আদনান তাহসিন আলমদার: জনাব, ডাবস্ট্যান্ডারডিজম বুঝেন? বাংলায় বলে দ্বিমুখীচারিতা। মানে, একটা সাপের দুইটা মুখ টাইপের কিছু আরকি। এক মুখে বলে এক কথা, অন্যমুখে বলে আরেক কথা। উভয় কথা আবার একে-অন্যের চেয়ে একেবারে ১৮০° বিপরীতে থাকে। একটা আপনার সাথে জীবনঘনিষ্ঠ উদাহারণ দিই, তাহলে ব্যাপার টা আরো সুন্দরভাবে সকলে বুঝতে পারবে। এই যে আপনি চট্টগ্রামে শিক্ষা-সংস্কৃতি, আর বৈচিত্রের পাশাপাশি ধর্ম নিয়ে যে লেখাটা দিলেন, সেটাতে আপনি প্রথমে পাকিস্তান থেকে প্রতিবছর যে পীর সাহেব আসেন, তাকে নিয়ে একটা বিশ্রী লেভেলের কটুক্তি করলেন; ঠিক একই লেখার শেষের দিকে নিজেই এসে স্বীকার করলেন যে চট্টগ্রাম বারো আউলিয়ার শহর, মাইজভাণ্ডারীর শহর, সুফি, মুর্শিদি, কবিয়ালের শহর। এইটা হল একটা চরম পর্যায়ের দ্বিমুখীচারিতা। আপনার লেখা মারফত বুঝতে পারলাম যে সংস্কৃতি, মৌলবাদ, ধর্মীয় গোঁড়া, উগ্রবাদী চিন্তা, এসব নিয়ে আপনার জ্ঞান ভাসাভাসা। পুরাপুরি এখনো হয়নাই৷ আসেন আগে এসব নিয়ে বিস্তারিত জানি।

তো উইকিপিডিয়া সংস্কৃতি নিয়ে বলতেছে, ‘Culture is an umbrella term which encompasses the social behavior and norms found in human society, as well as the knowledge, beliefs, arts, laws, customs, capabilities, and habits of the individuals in these groups. (১)

আবার এইদিকে নৃবিজ্ঞানী টেইলরের ভাষ্যমতে সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জিত নানা আচরণ, যোগ্যতা এবং জ্ঞান, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতি, আদর্শ, আইন, প্রথা, ইত্যাদির এক যৌগিক সমন্বয় হল সংস্কৃতি। (২)

সংস্কৃতি জিনিস টা হল বেঁচে থাকার কৌশল। আপনার পূর্বপুরুষদের যেমন এই কৌশলগুলো ছিল, তা থেকে উত্তরপুরুষেরা, মানে আমরা-আপনারা এই কৌশলগুলো পেয়ে থাকি। অধিকন্তু সময় ও যুগের প্রেক্ষিতেও আমরা কিছু কৌশল সৃষ্টি করে থাকি। সুতরাং, বলা যায় যে, সংস্কৃতি একদিকে যেমন আরোপিত, অর্থাৎ উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত, তেমনি তা অর্জিতও বটে। (৩)

তো, সংস্কৃতি জিনিস টা যে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া, সেটা আপনিও আপনার লেখায় পরোক্ষভাবে স্বীকার করছিলেন। যেমন, আপনি যে বারো আউলিয়ার কথা বলছিলেন, দূর্ভাগ্যবশত উনারা কেউই চট্টগ্রামের স্থানীয় ছিলেন না। বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে ধর্ম প্রচারের খাতিরে আসছিলেন। শব্দত্রয় খেয়াল করবেন, ‘ধর্ম প্রচারের খাতিরে’। তো, উনারা আমাদের পূর্বপুরুষ। যাদের থেকে আমরা সংস্কৃতির অনেকটা পেয়েছি। উনাদের হাত ধরেই মাইজভান্ডার উত্তরাধিকার সূত্রে একই সংস্কৃতিতে চাষ দিয়েছেন। এই সংস্কৃতি টা হইল, সুফি, মুর্শিদি, আধ্যাত্মবাদের সংস্কৃতি। যার সাথে মুসলমানিত্বের সম্পর্ক কাঠালের সাথে কাঠাল বিঁচির মত। একই সংস্কৃতি কে লালন করতে গিয়া পাকিস্তানের পীর সাহেব এখানে আসছেন৷ আপনি যে উগ্রতার কথা বলছেন, সে উগ্রতা থেকে তাঁর ভক্ত-মুরিদগণ অন্তত হাজার গ্যালাক্সি ব্যবধানের চেয়েও বেশি দূরে অবস্থান করে। বিশ্বাস না হইলে নিজেই গবেষণা কইরা দেখেন ব্যাপার টা। তাইলে আপনার কথা ও উপরের তথ্যভিত্তিক আলোচনা থেকে বুঝতে পারলাম যে, চট্টগ্রামের সংস্কৃতির একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হল আধ্যাত্মবাদের চর্চা। সেই চর্চার অংশ হিসেবেই পাকিস্তানের পীরের বাংলাদেশ আগমন, যা আপনি অগ্রাহ্য করে নিজেই নিজের কথার বৈপরীত্বতা প্রদর্শন করলেন। যে কবি আলাওলের নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলেন, সেই মহাকবির আধ্যাত্মিক গুরু মসউদ শাহ্ ও তাঁকে ‘কাদেরী খিলাফত’ প্রদান করেন। মানে তাও কোন না কোনভাবে ধর্মের সাথে সম্পর্কিত৷

আপনার লেখাটা সার্বজনীন হওয়ার স্থলে চরম মাত্রায় ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে উঠার হেতু আমি খুঁজে পেলাম না। লেখার শুরুটা পড়ে মনে করেছিলাম একটা সার্বজনীন লেখা পাব। কিন্তু মাঝপথে এসে খেই হারিয়ে ফেলার মত ইসলাম বিদ্বেষীতাকেই জাহির করলেন। মৌলবাদি, ধর্মীয় গোঁড়া ও উগ্রতা টার্ম গুলা এমন কিছু উদাহারণের সাথে ব্যবহার করলেন যেই উদাহারণ গুলার এসবের সাথে ন্যুনতম সম্পর্ক নাই৷

ভারতীয় উপমহাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের সাথে মুসলিম শব্দটা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চট্টগ্রামের ইতিহাসে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, কিংবা ধর্মীয় হানাহানির কদর্য চেহারার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। পাকিস্তানের পীর সাহেব যে এলাকায় আসেন, সে এলাকাতেই আছে হিন্দুধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত একটি পাড়া৷ সেখানে তাঁদের বড়-বড় দুটি মন্দিরও আছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে এসে ভক্তি ও শ্রদ্ধা জানায়। মুসলমানদের সাথে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে এরা এখানে বসবাস করে আসছে যুগ-যুগ ধরে। তাঁরা নিজেরাই আসতে-যেতে এই পাকিস্তানি পীরের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা, খানকাহ, মসজিদে সম্মান জানায়, প্রণাম করে, ভক্তি প্রদর্শন করে। এই এলাকার ছেলে হিসেবে ছোট বেলা থেকে এলাকার হিন্দু ভাইদের সাথে খেলাধুলা করে এসেছি, একসাথে পড়ালেখা করে এসেছি, কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে আড্ডা দিয়েছি। সাম্প্রদায়িক মেলবন্ধনের এক অপার দৃষ্টান্ত আছে এখানে। আবার আপনি হাটহাজারি মাদরাসার কথা বললেন। হাটহাজারি মাদরাসার সামনেই যে একটা বড় মন্দির আছে, আপনি হয়ত সেটি দেখেননি, বা দেখেও দেখেননি। এই মন্দিরটি কালে-ভাদ্রে অত্র এলাকার ধর্মীয় সহাবস্থানের অন্যতম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুদিন আগে যখন দেশের কোন এক অঞ্চলে ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে দাঙ্গা লেগেছিল, তখন এই হাটহাজারি মাদরাসার ছাত্ররাই ওই মন্দিরের চারপাশে রক্ষাকবজ তৈরি করেছিল, পাছে কেউ ওই মন্দিরে হামলা করে না বসে। এই হল আমাদের চট্টগ্রামের ধর্মীয় সহাবস্থানের চিত্র৷ চট্টগ্রামের মহিমান্বিত সংস্কৃতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, এই ধর্মীয় সহাবস্থান। এভাবে করে মাইজভান্ডার সহ চট্টগ্রামের প্রায় সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এই সহাবস্থানের প্রমান বহন করে। তাই আপনি এইরকম মিথ্যাচার আরোপ করে চট্টগ্রামবাসীকে অপমান করলেন।

এই চট্টগ্রামেই মাথা উঁচু করে অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষ বীনা বাধায় ধর্ম পালন করতে পারে। হিন্দু-মুসলিম-বোদ্ধ-খ্রিস্টানসহ আরো অসংখ্য নৃগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের অনন্যতা এই শহরের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা, সকলের মন কাড়েনি বলে আরেকটি মিথ্যাচার আপনি করেছেন আপনার লেখাতে৷ অথচ, যেকোন ধর্মেরই বড়-বড় উৎসবে চট্টগ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্বাচ্ছন্দ্য উপস্থিত হয়ে এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক উদারতাকে এখনো উজ্জীবিত রেখেছে, যা প্রতি বছরই দেখতে পাই। চট্টগ্রাম তখন যেমন সাহিত্য-সংস্কৃতি আর দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা ছিল, ঠিক তেমনি আছে এখনো পর্যন্ত।

মুসলিম ইনস্টিটিউট হল যে পুনঃনির্মাণ হচ্ছে, তা হয়ত আপনার চোখে পড়েনি। কিংবা আপনি হয়ত কখনো বিকেলবেলা সিআরবিতে গিয়ে ঘুরে আসেন নি। অনুরোধ করব, এই অঞ্চলগুলোর ব্যাপারে লেখার আগে একটু সেখানে গিয়ে পরিদর্শন করে আসবেন ভবিষ্যতে।

আমার পক্ষ থেকে অসীম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানবেন। আপনার মঙ্গল কামনা করছি।

তথ্যসূত্রঃ

১. Tylor, Edward. (1871). Primitive Culture. Vol 1. New York: J.P. Putnam’s son.

২. Tylor 1974, 1।

৩. এ কে এম শওকত আলী খান (২০১৪)। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস। গ্রন্থ কুটির। পৃষ্ঠা ৪৭। আইএসবিএন 978-984-91024-2-7।

 

                                                                                                                                                                                                                                      লেখকঃ সোশ্যাল এক্টিভিস্ট

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

এই পোর্টালটি  © ২০২১ প্রিয় বার্তাদেশ কতৃক সংরক্ষিত ।

 
কারিগরি সহযোগিতায়: ইন্টাঃ আইটি বাজার
error: সংবাদগুলো কপিরাইটের আওতাধীন